আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ঘাটতি দূর করা এবং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ, নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করা কারিকুলাম, শিক্ষক উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন একযোগে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়নে চলমান ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় ঘাটতি চিহ্নিত করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো করছে, তবে যেসব শিক্ষার্থী পিছিয়ে রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করার কাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ও তদারকিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ভিডিও লেসন, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি শনাক্ত করে পুনরায় শেখানোর আধুনিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মানে মৌলিক পরিবর্তন আনা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, প্রযুক্তি ও কারিকুলামকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক আবদুল আজিজ, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।