আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ফেনীতে বিএনপির জনসভায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। সভার অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দ্বিতীয়বারের মতো ফেনীতে জনসভায় বক্তব্য দিতে এসে তারেক রহমান দেশের সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলেও পুরো আয়োজনজুড়ে বিশৃঙ্খলার কারণে তাকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে হয়। মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে একাধিকবার তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
এক পর্যায়ে বক্তব্যের মাঝেই তিনি চেয়ারে বসে পড়েন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বক্তব্য শেষ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, এটি তার নানার বাড়ি, কথা না শুনলে বক্তব্য বন্ধ করে দেবেন। কিছু সময় নীরব থাকার পর তিনি আবার মাইক হাতে নিলেও তার মুখভঙ্গিতে বিরক্তি স্পষ্ট ছিল।
বক্তব্য শেষে ১৬ বছরে গুম ও খুনের শিকার পরিবার, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের স্বজন এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়িতে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পড়লে বিজিবি, পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তারেক রহমানকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগেও বক্তব্য চলাকালে একদল নেতাকর্মী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মঞ্চের দিকে ছুটে যান। কয়েকজন মঞ্চে উঠে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল একজনকে ধরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। মঞ্চে থাকা অন্য নেতারাও চাপ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
জনসভায় শৃঙ্খলা ভাঙার ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ফেনীসহ তিন জেলার নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভার শুরু থেকেই সামনে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় পুরো আয়োজন এলোমেলো হয়ে পড়ে। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার পর সামনের অংশে সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
বক্তব্যের ক্ষেত্রেও দলীয় প্রটোকল মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পর বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে। সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সভাস্থল থেকে অনেকের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনাও ঘটে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পুরো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সোহেলের কাছে। এ কারণে জনসভায় পরিকল্পিত নাশকতার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ ঘটনায় ১৫ জন সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হলেও বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতা তাদের খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত পাঁচজনকে মঞ্চের পাশে একটি মসজিদের ভেতরে শুইয়ে রাখতে দেখা গেছে।
এছাড়া ধস্তাধস্তি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাদের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ড কথা বলেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তারেক রহমান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর ফেনী জেলা সভাপতি শায়খুল হাদিস হাফেজ মাওলানা মুফতি তাহের সাইদ আমন্ত্রণ পেলেও মঞ্চে উঠতে পারেননি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত আবেগের কারণে নেতাকর্মীরা নেতাকে কাছ থেকে দেখার জন্য মঞ্চের দিকে ছুটে যান। বক্তব্যে প্রটোকল না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, বড় জনসমাগমের কারণে তা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, জনসভা বড় হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।