আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত বছরের ১ আগস্ট একটি বিয়ের রাতেই অপ্রত্যাশিত জটিলতা দেখা দেয়। বর রায়হান কবির অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর নববধূর মুখ ধোয়ার পর তিনি তাকে চিনতে পারেননি। তার দাবি, অতিরিক্ত মেকআপের আড়ালে কনে বদল করা হয়েছে।
ঘটনার পর বরপক্ষ মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে ২৭ আগস্ট আদালতে মামলা করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর কনের পরিবারও পাল্টা মামলা দায়ের করে।
বরের মামা বাদল জানান, ঘটকের মাধ্যমে কনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং মেয়েপক্ষ দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই কনেকে চিনতে না পারার কারণে সমস্যার সূত্রপাত হয়। বর দাবি করেন, ঘটক ও মেয়ের বাবা এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মেজো মেয়েকে ছেলেপক্ষ বিয়ের আগে দেখেছে এবং অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যৌতুক দাবির বিষয়টিও মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন। ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বর রায়হান কবির জামিনে ছিলেন, তবে সম্প্রতি জামিন নামঞ্জুর হয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা ঠাকুরগাঁও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বিয়ের আনন্দ মুহূর্তকে আইনি ঝামেলায় পরিণত করেছে।