আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে তাকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে ভাবছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের কোথায় এবং কীভাবে আঘাত হানা হতে পারে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনায় সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, প্রেসিডেন্টের অনুমোদন মিললে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা বেড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহত ও আহত মানুষের চাপে হাসপাতালগুলোতে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের মাথা ও বুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এসব সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, এই দুই বিষয় একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।