আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন কোনোভাবেই মার্কিন জনগণের যুদ্ধ নয়। তেহরানের আশা, বিবেকবান মার্কিন নাগরিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন। তিনি সাম্প্রতিক এই সংঘাতকে ‘বিনা উস্কানিতে শুরু হওয়া’ এবং ‘অবৈধ ও উসকানিমূলক আগ্রাসন’ বলে বর্ণনা করেন।
বাঘাই তার পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের (এনসিসি) পরিচালক জোসেফ কেন্টের পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে জানান, একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেন না।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, একজন সচেতন ও নীতিবান মার্কিন নাগরিক কিংবা কর্মকর্তার জন্য এই যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করাই ন্যূনতম নৈতিক দায়িত্ব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।
জোসেফ কেন্ট আরও দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। বরং ইসরাইল এবং দেশটিতে সক্রিয় প্রভাবশালী ইসরাইলপন্থী লবির চাপেই ওয়াশিংটন এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ ও অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে হামলার পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ইসরাইলি চাপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ যুদ্ধকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে হাউস স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দেন, হোয়াইট হাউস মনে করেছিল ইসরাইল এককভাবেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। ফলে পরিস্থিতি রিপাবলিকান প্রশাসনের জন্য একটি জটিল ও কঠিন সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর থেকে ইরান পাল্টা জবাবে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।