আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: বিশুদ্ধ আকিদা ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণ কখনোই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষ আলেম-উলামারা। তারা বলেছেন, বর্তমান সময়ে নানা ভ্রান্ত মতবাদ, বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা ও অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সহিহ আকিদা সংরক্ষণ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘উম্মতের বিশুদ্ধ আকিদার হেফাজত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান-এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ও মাওলানা হাসান জামিল-এর যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম, খতিব, ওয়ায়েজ ও দ্বীনি ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, মুসলিম উম্মাহর সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো আকিদাগত বিভ্রান্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ ও অপসংস্কৃতির প্রভাবে অনেক মানুষ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই কুরআন-সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত বিশুদ্ধ আকিদার শিক্ষা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, শুধু বক্তব্য বা ওয়াজ মাহফিল নয়, বরং নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে সহিহ আকিদার দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দেওয়া সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ দেশের বহু শীর্ষ আলেম।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাসেত খান বলেন, “বিশুদ্ধ আকিদাই একজন মুমিনের ঈমান, আমল ও চরিত্রের মূল ভিত্তি। আকিদা সঠিক না হলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি আলেম-উলামা, খতিব, ওয়ায়েজ এবং ইসলামপ্রিয় জনসাধারণকে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আকিদা দৃঢ়ভাবে ধারণ ও প্রচারের পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর মতবাদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে দেশের শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দ্বীনের সঠিক শিক্ষা বিস্তার এবং জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।