আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও পতন দেখা গেছে। মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্ববাজারে চলমান এই দরপতনের প্রভাব শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে।
সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে গত সপ্তাহেও সোনার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছিল, যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, ফলে দামও নিম্নমুখী হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে সোনার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা ১৯ মাস ধরে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়িয়েছে। তবে বিশ্বের বড় দুটি বাজার চীন ও ভারতে সোনার চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা মূল্যহ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৬ জুন সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।
শুধু সোনাই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা ও প্লাটিনামের দামও কিছুটা কমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও সোনার দাম আরও সমন্বয় করা হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স