আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমে গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে চলমান দরপতনের প্রভাব শিগগিরই দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম আরও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লেনদেনের শুরুতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। একই সময়ে ভবিষ্যৎ সরবরাহের স্বর্ণের দামও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়, কারণ স্বর্ণ সুদবিহীন বিনিয়োগ সম্পদ।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশটির মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে স্বর্ণ উৎপাদন বৃদ্ধির খবরও বাজারে সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্বর্ণ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা ও প্ল্যাটিনামের দাম কমলেও প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই ধারাবাহিক দরপতন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শিগগিরই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। ফলে ক্রেতাদের জন্য সামনে আরও স্বস্তির খবর আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স