আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এমন প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী ডলারের প্রভাবে মূল্যবান ধাতুটির দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর প্রভাব শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচারও ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
চলতি মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক দরপতন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের পর এটি অন্যতম বড় মাসিক পতন।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার চেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি শক্তিশালী ডলারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদাও কিছুটা কমেছে।
বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং ডলারের শক্ত অবস্থান মিলিয়ে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলেও তিনি ধারণা দিয়েছেন।
এদিকে বিশ্ববাজারে মূল্য কমায় দেশের বাজারেও আবার স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন হলে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২৯ জুন বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়েছিল। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।
সূত্র: রয়টার্স