আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সদরপুর উপজেলা এলাকায় এক নারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিয়ের আড়ালে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ।
রোববার দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে লাবিবা আক্তার-এর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।
তার অভিযোগ, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে লাবিবা বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন। ওই সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরিফ বিল্লাহ জানান, ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়। তবে আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালে মো. মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং পরে যৌতুক মামলার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।
এছাড়া মাওলানা তারিকুল ইসলাম নামে রাজবাড়ীর এক মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরিফ বিল্লাহর দাবি, তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে দেনমোহরের টাকা দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্নভাবে অর্থ নেওয়ার পর সম্পর্কের ইতি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া অর্থ এলাকার কয়েকজনের কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও তার কাছে তথ্য রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান আরিফ বিল্লাহ।
এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।