আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে তার একটি বৈঠক হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ এসেছিল সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কূটনীতিকের পক্ষ থেকেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রকাশ্যে হলেও ভারতীয় কূটনীতিকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, বৈঠকটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এই বৈঠকের ক্ষেত্রে গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল। আমি তখন প্রশ্ন করেছিলাম, এতে সমস্যা কোথায়?
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সব পক্ষের মধ্যে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তার ভাষায়, আমাদের একে অপরের প্রতি উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। অন্তত আগামী পাঁচ বছর আমরা একটি স্থিতিশীল দেশ দেখতে চাই।
এই বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দলটির আমির বলেন, তারা কোনো একটি দেশের প্রতি ঝুঁকে নয়, বরং সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ওই পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দলটি শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনে একটি ঐক্যভিত্তিক সরকারে অংশ নেওয়ার বিষয়ে উন্মুক্ত রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান যে কোনো সম্ভাব্য সরকারের অভিন্ন এজেন্ডা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি জটিল করতে চান না বলে জানান।