আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আপাত যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ও ভূগর্ভে সংরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরুদ্ধারে জোরদার কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি, এমন আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাগুলোর ভেতর থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে বিশেষ ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি গোপনে সংরক্ষিত অস্ত্রভাণ্ডারও পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। এই তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে ইরান তাদের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এ কারণে ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এখনও তাদের প্রতিরোধ সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে জবাব দিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের ‘নীরব প্রস্তুতির সময়’। বাইরে শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।
এদিকে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যতটা আছে, সামরিক উত্তেজনা ফের বাড়ার ঝুঁকিও ততটাই প্রবল, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম