আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: ব্যাংকে চাকরি করে উপার্জন করা হালাল নাকি হারাম, এই প্রশ্নটি আজকাল অনেকের মাঝেই দেখা যায়। বিশেষ করে আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত চাকরিগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি নিয়ে আলেমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, উপার্জনের মূল ভিত্তি হলো তা হালাল হওয়া। যে কাজ সরাসরি সুদ (রিবা) এর সঙ্গে জড়িত, বা সুদের লেনদেনে সহযোগিতা করে, তা থেকে উপার্জন করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
অর্থ: “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের বাকি অংশ ছেড়ে দাও।
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধরনের সহযোগিতাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ
অর্থ: “রাসুলুল্লাহ ﷺ সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লিখনকারী এবং সাক্ষীদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।”
(সহিহ মুসলিম)
ইসলামি স্কলারদের মতে, যে ব্যাংক সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেখানে সরাসরি সুদ-সংক্রান্ত কাজ যেমন লেনদেন, হিসাব, অনুমোদন বা পরিচালনায় যুক্ত থাকা সাধারণভাবে বৈধ নয় বলে মত পাওয়া যায়।
তবে আলেমরা এটাও উল্লেখ করেন যে ব্যাংকের সব বিভাগ একরকম নয়। কিছু প্রশাসনিক বা সেবা-সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত অবস্থান অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, ইসলামে সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ فَقَدِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীনকে নিরাপদ রাখে।
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
সব মিলিয়ে ইসলামের শিক্ষা হলো, উপার্জন হতে হবে সম্পূর্ণ হালাল ও সন্দেহমুক্ত। কারণ হালাল রিজিক শুধু দুনিয়ার জীবনে বরকত আনে না, আখিরাতের সফলতার সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত।