আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েকদিন পর হঠাৎ আকাশ লালচে-কমলা রঙ ধারণ করায় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিচু মেঘের সঙ্গে মিশে আকাশে তৈরি হয়েছে এক অস্বাভাবিক রক্তিম আভা, যা অনেকেই অশুভ সংকেত বলে মনে করেন।
গত ২৪ জুনের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর এই বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাওয়ায় অনেকেই ঘটনাটিকে নতুন কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ এটিকে ‘শেষ সময়ের সংকেত’, আবার কেউ ‘ঈশ্বরের সতর্কবার্তা’ বলেও মন্তব্য করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ। তাদের মতে, রেলি স্ক্যাটারিং (Rayleigh Scattering) এবং সাহারা মরুভূমি থেকে ভেসে আসা সূক্ষ্ম ধুলিকণার প্রভাবে সূর্যের আলো ভিন্নভাবে বিচ্ছুরিত হওয়ায় আকাশে লাল ও কমলা রঙের আধিক্য দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে গেলে নীল রঙের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি ছড়িয়ে পড়ে, আর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল ও কমলা আলো তুলনামূলক বেশি দৃশ্যমান হয়। এর ফলেই সূর্যাস্তের সময়ের মতো পুরো আকাশ রক্তিম আভায় ঢেকে যায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সাহারা মরুভূমির ধুলোর বিশাল মেঘ আটলান্টিক পেরিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চল হয়ে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে এবং একই ধুলোর প্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে উদ্ধারকাজে সামরিক ও জরুরি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, লাল আকাশ একটি প্রাকৃতিক বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা এবং এর সঙ্গে ভূমিকম্প বা নতুন কোনো দুর্যোগের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই।
সূত্র: রয়টার্স, উইয়ন নিউজ