আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১,৪৫০ জনে পৌঁছেছে। ধসে পড়া অসংখ্য ভবনের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্যোগের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা দিন দিন কমে আসছে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেস জানিয়েছেন, সর্বশেষ আরও ২০টি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১,৪৫০-এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩,১৫০ জন। গৃহহীন হয়েছেন ১২ হাজার ৭২১ জন এবং ৭৭৪টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সরকারিভাবে নিখোঁজের সংখ্যা কয়েকশ বলা হলেও বিরোধী সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। জাতিসংঘের হিসাবেও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খোঁজ মিলছে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজের ছুটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলে প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের উদ্ধারকারী দলের প্রধান সেবাস্তিয়ান ইউগস্টার বলেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
তবুও আশার আলো দেখিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। রোববার ধ্বংসস্তূপ থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর উদ্ধারকারী দলও তিন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভ্যাটিকান থেকেও পোপ লিও দুর্গত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধারকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
এদিকে এই দুর্যোগের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এমন সংকটের সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনও আসেনি।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ‘আমুয়াই’ সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স, বিডিনিউজ২৪