আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তা বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে দেশটি থেকে আনা প্রথম চালানের তেল বিক্রি করে প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এক সেনা অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার পর দেশটির জ্বালানি খাত কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপরই ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল আনার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গত ৭ জানুয়ারি ট্রাম্প জানান, প্রাথমিকভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে। ওই চালানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
তেল বিক্রির পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, শিগগিরই ভেনেজুয়েলার তেল খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসবে।
তবে বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা পূরণে অনিশ্চয়তার কথাই শোনা যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন তেল কোম্পানি জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত আইনগত কাঠামো ও ব্যবসায়িক নিশ্চয়তা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল মজুতকারী দেশগুলোর একটি। বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও ঘন হওয়ায় তা উত্তোলন ও পরিশোধনে বাড়তি প্রযুক্তি ও ব্যয় প্রয়োজন হয়।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।