আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোতে না পারায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামেও নতুন করে পতন দেখা গেছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৭৮ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন সোনা ফিউচার বাজারেও দরপতন দেখা যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা বাড়লেও শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও উচ্চ সুদের আশঙ্কার কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছেন। এতে মূল্যবান এই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন।
চীনের বাজারেও সোনা উৎপাদন কমে যাওয়ার খবর এসেছে। নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি খনি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সোনার দাম বড় পরিসরে ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে অন্যান্য ধাতব বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম সামান্য বাড়লেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন হয়েছে।