আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংস অপরাধের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভয়ংকর অপরাধের পেছনে বড় একটি কারণ হয়ে উঠছে মাদকের বিস্তার। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণহীন ও সহিংস আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। পরিবারগুলোও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ করলে মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি, বিবেকবোধ ও মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে একজন ব্যক্তি অল্পতেই হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইয়াবা ও অন্যান্য উত্তেজক মাদক তরুণদের আচরণে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতাও জরুরি। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে কিংবা আচরণে পরিবর্তন আসছে কি না, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
তাদের মতে, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে না। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলে তবেই মাদক ও সহিংস অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।