আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের জীবনমান উন্নত করাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে, এই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। এর ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ খালের পানির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
তিনি বলেন, খালটি সচল হলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন এবং তাদের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি ক্ষতি করে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পানি সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়।
খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাহাপাড়া খালের পাড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ লাগানো হবে এবং মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অনেক এলাকায় খাল ও নদীতে পানি না থাকায় কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই মাটির ওপরে থাকা পানিকে সংরক্ষণ করে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি।
কৃষকদের সহায়তার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন এবং শিগগিরই এর পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ধীরে ধীরে দেশের সব এলাকায় এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান।
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপনের বিষয়ে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঈদের পর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানুষের আয় বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক এবং তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি সফল হতে পারে না। তাই দেশ গড়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।