আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের সম্ভাব্য মার্কিন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো দেশের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে না এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী Kazem Gharibabadi বলেন, ইরানের সম্পদ ওয়াশিংটনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নয়, আবার তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য কোনো আর্থিক তহবিলও নয়।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আঞ্চলিক কোনো দেশের ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান একাধিক উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা।
সর্বশেষ কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে আঞ্চলিক অবকাঠামোর কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের অনুমতি ছাড়া দেশটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে তা নতুন এক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পদক্ষেপ চলমান শান্তি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ নিজেদের ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার নৈতিক ভিত্তি নেই। বরং এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ইরানের ক্ষতির দায় তাদেরই বহন করা উচিত।
এদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের বিপুল অঙ্কের অর্থ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। ইরান বলছে, স্থগিত সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমঝোতা ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
সূত্র: রয়টার্স