আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরান। ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কয়েক বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক অবস্থানে কেন দেখা যাচ্ছে ইরানকে?
ইরানের নৌবাহিনীর দাবি, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন অভিযানের কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবে কাজ করছিল। সেই কারণেই তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরানি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
তেহরান আরও দাবি করেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর ইরানের নৌবাহিনী ওই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতেও যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সম্পদ নিরাপদ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের মতে, ইরান মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন তেহরানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিভক্ত অবস্থানও ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ইরান এখন শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক চাপের জবাব সরাসরি দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হয়ে উঠেছে।
ওমান উপসাগরের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন কোনো সংঘাতের পথে এগোয় নাকি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা আরও জোরদার হয়।