আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মালয়েশিয়ায় ৩০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ কর্মসংস্থান, ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ৩২৪ জন ভিসা বা পাসের শর্ত লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় যে উদ্দেশ্য দেখিয়েছিলেন, বাস্তবে তারা তার বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এসব অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া কাজ করা, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং অভিবাসন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এ কাজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া আইন প্রয়োগ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে একটি বিশেষ ইনস্পেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট গঠন করা হয়েছে। বিদেশি অধ্যুষিত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশিদের জন্য দেওয়া ভিসা ও অন্যান্য সুবিধা যেন শুধুমাত্র অনুমোদিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগ বাড়তে থাকায় মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে অভিযান ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র: বারনামা, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ