আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী লাল চাঁন ওরফে সোহাগকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতিতেও। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ, ঢাবি, বুয়েট, জাবি, রাবি ও জবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
এই ঘটনার পরই বিএনপি ও ছাত্রদলের ‘নীতিহীন কর্মকাণ্ডে’ ক্ষোভ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী। পদত্যাগকারীরা হলেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ রানা প্রান্ত, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক লিসানুল আলম লিসান, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহিমুর রহমান জিসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইশতিয়াক রহমান এবং ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সূর্যসেন হলের কর্মী মোহাম্মদ আবু সাঈদ।
পদত্যাগপত্রে পারভেজ রানা লিখেছেন, “ছাত্রদলের নীতিহীন কর্মকাণ্ড আমাকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট নয়।”
লিসানুল আলম লিসান লেখেন, “দীর্ঘ এক দশক রাজনীতি করেছি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে, কিন্তু এই অস্থির পরিস্থিতিতে সেই স্বপ্নকে আর বিশ্বাস করতে পারছি না।”
ঢাবি শাখার আবু সাঈদ বলেন, “বিএনপি পরিবারতান্ত্রিক দল, এখানে গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। দলীয় সংস্কারেও বাধা দেয়া হচ্ছে।”
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের জিসান ও ইশতিয়াক লিখেছেন, “৫ আগস্টের পর ‘জুলাই বিপ্লব’-এর শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো গাদ্দারি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোহাগকে পাথর ও লাথি মেরে হত্যা নিশ্চিতের পর হামলাকারীরা লাশের ওপর লাফাচ্ছে। এই ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণহীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।