আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: মহিলাদের পর্দা নিয়ে সমাজে প্রায়ই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, বোরকা বা ঢিলেঢালা পোশাক পরার পর মুখ খোলা রাখা যাবে কি না। এ বিষয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও কোরআন-হাদিসের আলোকে মূল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
ইসলামে পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা ও দৃষ্টির সংযমের নির্দেশনা হিসেবে এসেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থ: “তারা যেন নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত থাকে তা ছাড়া।”
(সূরা আন-নূর: ৩১)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকলেও, অনেক আলেমের মতে “স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত অংশ” বলতে হাতের কবজি বা পোশাকের বাহ্যিক অংশ বোঝানো হয়েছে। তবে মুখমণ্ডল নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে নারীর মুখমণ্ডলও পর্দার অন্তর্ভুক্ত। কারণ মানুষের সৌন্দর্যের প্রধান অংশ মুখেই প্রকাশ পায়। তাই সেটি ঢেকে রাখা অধিক নিরাপদ ও পর্দার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু আলেমের মতে মুখ খোলা রাখা জায়েজ হলেও তা শর্তসাপেক্ষ এবং ফিতনার আশঙ্কা থাকলে মুখ ঢেকে রাখা উত্তম।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করে আলেমরা বলেন, তিনি হজের সময় গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে আসলে কাপড় টেনে মুখ ঢেকে দিতেন। এ থেকে অনেক ফিকহবিদ মুখমণ্ডল ঢাকার পক্ষে দলিল গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে কোরআনের নির্দেশও রয়েছে দৃষ্টির সংযমের ব্যাপারে—
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
অর্থ: “মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।”
(সূরা আন-নূর: ৩০)
শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যায় বলেন, পর্দার উদ্দেশ্য শুধু কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা নয়; বরং দৃষ্টি, আচরণ ও প্রদর্শন থেকে নিজেকে সংযত রাখা। তিনি সতর্ক করে বলেন, আজকাল অনেক ক্ষেত্রে পর্দার মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে গিয়ে সেটিকে ফ্যাশনের অংশে পরিণত করা হচ্ছে, যা প্রকৃত ইসলামী পর্দার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সব মিলিয়ে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্দার মূল লক্ষ্য হলো শালীনতা, নিরাপত্তা এবং ফিতনা থেকে দূরে থাকা। মুখ খোলা রাখা যাবে কি না, এ বিষয়ে মতভেদ থাকলেও অধিক নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা।