আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দামে যে অতিরিক্ত ঝুঁকিজনিত মূল্য যুক্ত হয়েছিল, তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট কমে ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ ডলার ১ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলার ৮৭ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে। গত মার্চের পর এটিই তেলের সর্বনিম্ন মূল্য।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তার দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে প্রণালি চালু হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তেলের দাম কমার প্রধান কারণ। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ আলোচনা ঘিরে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই তেলের দাম আরও কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।
সূত্র: রয়টার্স