
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই বৈরুতসহ বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। লেবাননের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে শতাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, ফলে বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানায়, শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স টানা কাজ করে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই হামলা হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও কমান্ড কাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে চালানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ হামলা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এমন বড় হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স




























