আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা দেখা দিয়েছিল। তবে সেই আশায় আবারও ধাক্কা লেগেছে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে পালটাপালটি হামলার ঘটনায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।
ইরানের দাবি, তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রথমে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জাস্ক বন্দরের কাছাকাছি এই হামলার পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিট হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোকে লক্ষ্য করে জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার ফলে মার্কিন বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পুরো পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এরপর “আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পালটা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে চায় না। তবে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর এত দ্রুত নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়া প্রমাণ করছে যে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো গভীর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। নতুন সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।