আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজ দেশেই চাপে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমে এসেছেন শত শত মানুষ। তারা সরাসরি সরকারের যুদ্ধনীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার শহরের বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেন। “যুদ্ধ নয়, আলোচনা চাই” এমন বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা সরকারের সমালোচনা করেন। বড় ধরনের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের কণ্ঠ দমিয়ে দিতে পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা বলেন, শুধু ইরান নয়, গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সহিংসতার অবসান চান তারা।
অনেকের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি মামলাকে ঘিরে জনমনে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ মনে করছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক সংকট আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
তবে এসব সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।
এদিকে সংঘাতও থেমে নেই। ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এসব হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
সব মিলিয়ে একদিকে বাহিরে যুদ্ধ, অন্যদিকে ভেতরে জনরোষ, দ্বিমুখী চাপে এখন কঠিন সময় পার করছে ইসরায়েল সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হলে তা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস