আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: রিজিক শুধু টাকা-পয়সা নয়। সুস্থতা, মানসিক শান্তি, পরিবারের সুখ, হালাল উপার্জন, নেক সন্তান এবং জীবনের প্রশান্তিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। অনেক সময় মানুষ প্রচুর পরিশ্রম করেও জীবনে স্বস্তি খুঁজে পায় না। আয় বাড়লেও সংসারে বরকত থাকে না। ইসলামি শিক্ষায় কিছু গুনাহ ও খারাপ অভ্যাসকে রিজিক সংকুচিত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
﴿وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ﴾
অর্থ: “যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকত খুলে দিতাম।”
— (সুরা আল-আ’রাফ : ৯৬)
হাদিসে এসেছে—
«إِنَّ الْعَبْدَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ»
অর্থ: “বান্দা কখনো তার গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।”
— (ইবনে মাজাহ)
ইসলামি আলোচনায় যেসব কাজ রিজিকের বরকত কমিয়ে দেয় বলে উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে—
১. নামাজে অবহেলা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ত্যাগ বা অবহেলা করলে জীবনে অশান্তি ও বরকতহীনতা নেমে আসতে পারে।
২. মিথ্যা বলা
মিথ্যা ও প্রতারণা ব্যবসা-বাণিজ্যের বরকত নষ্ট করে দেয়।
৩. সুদ লেনদেন
সুদকে ইসলামে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে। সুদের অর্থ বাহ্যিকভাবে বাড়লেও এতে বরকত থাকে না।
৪. হারাম উপার্জন
ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি বা অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ রিজিকের শান্তি নষ্ট করে।
৫. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
মা-বাবার কষ্ট ও বদদোয়া জীবনের বরকত কমিয়ে দিতে পারে।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম বলে হাদিসে এসেছে।
৭. যিনা ও অশ্লীলতা
অশ্লীলতা সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে অশান্তি তৈরি করে এবং আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৮. গিবত ও অপবাদ
অন্যের দোষচর্চা মানুষের নেক আমল নষ্ট করে দেয়।
৯. জাকাত না দেওয়া
গরিবের হক আদায় না করলে সম্পদের বরকত কমে যায়।
১০. অহংকার ও কৃপণতা
অহংকার আল্লাহ অপছন্দ করেন, আর কৃপণতা বরকত কমিয়ে দেয়।
১১. আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া না আদায় করা
নিয়ামতের কদর না করলে মানুষ ধীরে ধীরে বরকত হারাতে থাকে।
১২. অপচয় করা
অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় দারিদ্র্যের কারণ হতে পারে।
১৩. অন্যের হক নষ্ট করা
মানুষের প্রাপ্য মেরে খেলে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে।
১৪. দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা
ফজরের পর অলসতা অনেক সময় রিজিকের বরকত কমিয়ে দেয় বলে আলেমরা উল্লেখ করেন।
১৫. তওবা ও ইস্তেগফার ছেড়ে দেওয়া
নিয়মিত ইস্তেগফার রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম আমল।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
﴿فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ﴾
অর্থ: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন।”
— (সুরা নূহ : ১০-১২)
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, রিজিকের জন্য শুধু পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়; হালাল উপার্জন, তাকওয়া, দোয়া এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ যার জীবনে বরকত দেন, অল্প সম্পদেও সে প্রশান্তি খুঁজে পায়।