আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরেই কনকনে শীতে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জীবন। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও বিস্তৃত ও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায়।
চলতি জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে দুই থেকে তিন দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক বা একাধিক শৈত্যপ্রবাহ মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। ফলে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে পারে। তবে এ সময় বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সাধারণত মৌসুমি স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি অনেক বেশি হবে।
এ মাসজুড়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকা ও নিম্নাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অনেক এলাকায় কুয়াশা কখনও কখনও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
শীতের তীব্রতায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।