আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ম অনুযায়ী আদায় করতে হয়। কিন্তু সব পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হয় না। শরিয়তে এমন কিছু ত্রুটিযুক্ত পশু রয়েছে, যেগুলো দিয়ে কোরবানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হলো উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এসব পশুর বয়স নির্দিষ্ট সীমা পূর্ণ হতে হবে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত থাকতে হবে।
যেসব পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ নয়
ইসলামি স্কলারদের মতে, নিচের ত্রুটিগুলো থাকলে কোরবানির পশু গ্রহণযোগ্য হয় না,
এক চোখ বা দুই চোখ অন্ধ পশু
গুরুতর রোগে আক্রান্ত বা অতিরিক্ত দুর্বল পশু
খোঁড়া পশু, যা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না
এমন শুকনো পশু যার শরীরে পর্যাপ্ত মাংস নেই
জন্মগতভাবে কান না থাকা পশু
কানের বড় অংশ কাটা পশু
লেজের বড় অংশ কাটা পশু
শিং সম্পূর্ণ উপড়ে যাওয়া পশু
অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়া পশু
এতটাই অসুস্থ যে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না এমন পশু
দুধের স্তন ক্ষতিগ্রস্ত বা কাটা পশু
হাদিসে এসেছে, হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,
“চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না, এক চোখ অন্ধ, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত, খোঁড়া এবং অতিরিক্ত দুর্বল পশু।”
— (সহিহ ইবনে হিব্বান)
অন্য হাদিসে হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে দেখে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন।
— (সুনানে আবু দাউদ)
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ। তাই পশু নির্বাচনে গাফিলতি না করে শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত মেনে কোরবানি আদায় করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।