আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তাঁর দয়া অফুরন্ত এবং রহমত অগণিত। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। ইসলামের শিক্ষায় পাঁচ ধরনের ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হয় না।
১. হারাম উপার্জনকারী বা হারাম খাদ্য গ্রহণকারী
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে, যারা হারাম খাদ্য, পানীয় বা বস্তু গ্রহণ করে তাদের দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।
কোরআন:
﴿يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا﴾ (সুরা মুমিন: ৫১)
অর্থ: হে রাসুলগণ! পবিত্র জিনিস ভক্ষণ কর এবং নেক কাজ কর।
হাদিস:নবী ﷺ সাদ (রা.) কে বলেছেন, হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে তোমার দোয়া কবুল হওয়ার যোগ্য হবে। (আল মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫)
২. হতাশ ও অবিশ্বাসী ব্যক্তি
যে ব্যক্তি দোয়া করে হতাশ হয়ে যায়, সে বিশ্বাস করে না যে আল্লাহ তার দোয়া শুনবেন, তার প্রার্থনাও কবুল হয় না।
হাদিস:
أبو هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ: “كل دعاء المومن مجاب إلا ما استعجل وقال: دعوت ولم يرد عليّ” (বুখারি: ৬৩৪০)
অর্থ: প্রত্যেক মুমিনের দোয়া কবুল হয়; তবে যদি সে তাড়াহুড়ো করে বলে, আমি দোয়া করেছি কিন্তু আমার দোয়া গ্রহণ হয়নি, তা কবুল হয় না।
৩. আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রদত্ত নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না, তার দোয়া কবুল হয় না।
হাদিস:
عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ: “من ترك الطاعة فإن الله لا يقبل دعاءه” (তিরমিজি: ২১৬৯)
অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ পালন ত্যাগ করে, তার দোয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা
যে ব্যক্তি আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার দোয়া কবুল হয় না।
হাদিস:
عن النبي ﷺ: “من قطع رحمًا لم يدخل الجنة” (আত-তারগীব: ১৬৩৩)
অর্থ: যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমন ব্যক্তির দোয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. দোয়ার সময় মনোযোগী না থাকা
দোয়া করার সময় পূর্ণ মনোযোগ ও বিশ্বাস অপরিহার্য। অমনোযোগী বা অসচেতনভাবে দোয়া করলে তা কবুল হয় না।
হাদিস:
عن النبي ﷺ: “ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة، ولا يدعو أحدكم وقلوبهم ساهية” (তিরমিজি: ৩৪৭৯)
অর্থ: তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করো এবং নিশ্চিত হও দোয়া কবুল হবে; তবে কারো মন অসচেতন থাকলে তার দোয়া গ্রহণ হয় না।
এভাবে ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া কেবল শব্দ নয়, বরং বিশ্বাস, সততা, নেক জীবনযাপন ও মনোযোগের প্রতিফলন। এই পাঁচটি শর্ত মেনে চললে একজন বান্দার দোয়া আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।