আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরা এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র আড়াই বছরের এক কন্যাশিশুকে ধ/র্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ওয়ার্ড বয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গাতেও শিশুরা নিরাপদ নয়।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ মে) বিকেলে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় অবস্থিত শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসার জন্য আসা একটি পরিবারের আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে সুযোগ বুঝে ধ/র্ষণের চেষ্টা চালায় হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় নুর নবী (২০)। বিষয়টি টের পেয়ে শিশুটির স্বজনরা চিৎকার শুরু করলে মুহূর্তেই হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা দ্রুত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। পরে অভিযুক্ত নুর নবীকে আটক করে গণপিটুনির চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ সময় এলাকাবাসী অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত নুর নবী বরিশাল জেলার মে
হেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিন্নিরচর গ্রামের মৃত শহীদ শিকারীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, মানুষের নৈতিকতার এত বড় বিপর্যয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি হাসপাতালে এসে আড়াই বছরের কোমলমতি শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য অপরাধের চেষ্টা সভ্য সমাজের জন্য ভয়ংকর সতর্কবার্তা। অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশে শিশু ধ/র্ষণ, নি/র্যাতন ও যৌন অপরাধের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন, মাদকাসক্তি, নৈতিক শিক্ষার অভাব, পারিবারিক অবহেলা, সামাজিক অবক্ষয় এবং অনলাইন জগতের অ/শ্লীল কনটেন্ট তরুণদের একটি অংশকে বিপথগামী করে তুলছে।
অনেক নাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সামাজিক ও প্রযুক্তিগতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা শিশুদের সুরক্ষার জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপরাধের জন্য একক কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না। একজন অপরাধীর আচরণের পেছনে মানসিক বিকৃতি, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক পরিবেশ, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য নানা জটিল কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই অপরাধ প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, আড়াই বছরের এই নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।