আওয়ার টাইমস নিউজ।
রাজনীতি: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর), নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন এবং সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ব্যবধানে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সনদে সব দলের সই আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঐকমত্য কমিশন জানায়, সনদের চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। তারা আশা করছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খসড়ায় সব দলের সই করিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করা সম্ভব হবে। তবে রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্নমুখী হওয়ায় কমিশন আশা-নিরাশার মধ্যে দোলাচলে রয়েছে।
জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের পক্ষপুষ্ট। তারা জানিয়েছে, যদি এই প্রস্তাবগুলো মানা না হয়, তবে তারা সনদে সই করবে না। জামায়াত চায় গণভোট বা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন হোক।
বিএনপি ও সমমনা দল, জোট পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি সংবিধানে নেই এবং দেশের মানুষ এখনও ইভিএম পদ্ধতিও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। বিএনপি মনে করে, পিআর নিয়ে প্রস্তাব এনে নির্বাচনের বিলম্ব বা বাধা দেয়ার চেষ্টা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এলডিপি, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও কিছু বামপন্থি দলও পিআরের বিরোধিতা করছে।
ঐকমত্য কমিশন জানায়, ইতিমধ্যেই ২৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছে এবং ২৬টি দল মতামত জমা দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে সনদ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চূড়ান্ত রূপ শেষে এটি শেষবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হবে।
এরপর দুই পর্বের আনুষ্ঠানিক সংলাপ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে ৩০টি দলকে ‘স্বাক্ষর অনুষ্ঠান’এ অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। কোন দল সই করবে আর কোন দল করবে না, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। জুলাই সনদে সরাসরি বাস্তবায়নের পদ্ধতি উল্লেখ থাকবে না। কমিশন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আলাদা সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পাঠাবে। সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এই সুপারিশের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত ছয় মাস মেয়াদি কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ আগস্ট। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর পর আর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না।