আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর অজ্ঞাতসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছিল ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বিদায়ের আগ মুহূর্তে হওয়া ওই চুক্তি সম্পর্কে তাঁকে কোনোভাবেই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি।
সম্প্রতি বঙ্গভবনে এক বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যেকোনো চুক্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সর্বশেষ চুক্তির বিষয়ে তাঁকে মৌখিক বা লিখিতভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিকবার বিদেশ সফর করলেও কোনো সফরের ফলাফল বা আলোচনার বিষয় রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়নি। সংবিধানে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর উদ্যোগ থাকলেও পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো কার্যকর সমন্বয় ছিল না। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বিদেশ সফর সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কসোভো ও কাতারে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ পেলেও তাঁকে সফরে যেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর নামে একটি চিঠি প্রস্তুত করে তাতে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি ব্যস্ততার কারণে সফরে যেতে পারবেন না।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদেশি মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাকেও তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। এতে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনের প্রেস উইং পুরোপুরি প্রত্যাহার করার ঘটনাকেও নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এর ফলে বঙ্গভবন থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় দিবসগুলোতে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে তাঁর বাণী ও ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের সামনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মদদে একাধিকবার তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি সবকিছু সহ্য করে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।