আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে ভর্তি কোচিং বাণিজ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে করে কয়েক হাজার কোটি টাকার কোচিং বাজার আবারও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ছোট-বড় কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেক পরিবার এখন থেকেই শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যুক্ত করছে। ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আশায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের পড়ার চেয়ে কোচিংয়েই বেশি সময় দিচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার প্রচলন নেই। বরং এলাকাভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু থাকে। কিন্তু দেশে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব থাকায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে কোচিং ব্যবসা।
শিক্ষাবিদদের মতে, লটারি পদ্ধতি চালু থাকাকালে ভর্তিকে ঘিরে বাণিজ্য ও কোচিং নির্ভরতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এখন সেই পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় আবারও বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের সুবিধা পেলেও নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুরা পিছিয়ে পড়বে।
অভিভাবকদের একটি অংশও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে কোচিং ও গাইডবইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাণিজ্যিক করে তুলতে পারে।
এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, লটারি পদ্ধতি বাতিলের ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ভর্তি বাণিজ্য ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। তারা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার মান সমানভাবে উন্নয়ন না করে ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।