আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার পর এবার উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্বের মধ্যে গোপন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে বিভক্ত লিবিয়াকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ আলোচনা এগোচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের এই উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং সৌদি আরবও এতে সমর্থন দিচ্ছে। লিবিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের অনুরোধের পরই পাকিস্তান মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ৩৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক সরকারের প্রধান আবদুলহামিদ দ্বিবাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন এবং পূর্বাঞ্চলের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলের প্রধান সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে তাকে বাজেট-সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে পুরো প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাদ্দাম হাফতার ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় শক্তির প্রভাব থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে উভয় পক্ষের সম্পর্ক তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ। এ কারণে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি হতে পারে।
এদিকে পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক ও কাতারও এই আলোচনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততাকে উৎসাহ দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সমঝোতা হলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট পক্ষ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি