আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দানের অর্থ আত্মসাৎ, মানতের পশু বিক্রি, গিলাফ ও গোলাপজল পুনর্বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স ও ডেগ খুলে মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং মানতের ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এত অল্প সময়ের এই সংগ্রহ দানের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে দানবাক্সের অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব ছিল না। দানের টাকা, মানতের পশু এবং অন্যান্য উৎস থেকে আসা অর্থের বড় অংশ একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে যেত বলে স্থানীয়দের দাবি।
মাজারে আগত কয়েকজন দর্শনার্থী অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে দানবাক্সে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে হাতে হাতে অর্থ নেওয়ার প্রবণতাও দেখা গেছে। এ কারণে প্রকৃত দানের হিসাব কম দেখানো হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
মাজারকে কেন্দ্র করে মানতের পশু জবাই, রান্নার খরচ, গিলাফ ও গোলাপজল বিক্রিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে দর্শনার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মাজারে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, মাজার পরিচালনায় যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, মাজারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের অনুমোদন পেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করা হবে।