আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সময় ফুরিয়ে আসছে বলে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় তাদের সামনে কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় অত্যন্ত মূল্যবান।
রোববার Benjamin Netanyahu এর সঙ্গে ফোনালাপের পর এই হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও দুই নেতার মধ্যে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও তা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে Iran জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরানের উদ্বেগ ও শর্তগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনো তেহরানকে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি। ফলে উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আলোচনা পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগেও ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির আগে তিনি বলেছিলেন, ইরান সমঝোতায় না এলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এবারও তার বক্তব্যে সেই কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন দাবিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, শান্তি আলোচনা এখন সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তেহরানের দাবিগুলো দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর নিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি মাত্র পরমাণু কেন্দ্র চালুর অনুমতি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।