আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অবস্থান ও অনশন করছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মোসাম্মৎ নুসরাত জাহান। বিয়ের দাবিতে তার এই অবস্থান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ (সাইফুল ইসলাম)-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
নুসরাতের অভিযোগ, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বারের একটি আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন থাকার পর বিয়ের বিষয়টি তুললে হঠাৎ করেই তাকে রেখে সাইদ নিজ বাড়িতে চলে আসেন।
এরপর প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে সেখানে গেলে সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন নুসরাত। একপর্যায়ে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
পরে ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত যুবক বৈঠক ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নুসরাত।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "সাইদ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি এই বাড়ি থেকে কোথাও যাব না।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। এদিকে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত যুবক বৈঠক থেকে চলে যান এবং তার পরিবারও বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিয়ে বা আপস-মীমাংসার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।