আওয়ার টাইমস নিউজ।
লাইফস্টাইল ডেস্ক : খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং সহজলভ্য একটি খাবার। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খেজুরে পোকা, লার্ভা বা ফাঙ্গাস (ছত্রাক) থাকলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত এমন খেজুর খেলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা, খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
ক্ষতিকর উপাদান কিভাবে তৈরি হয়
শুকনো খেজুর যদি আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকে, সেখানে ছত্রাক জন্ম নিতে পারে। এই ছত্রাক থেকে তৈরি হয় মাইকোটক্সিন, যা শরীরে প্রবেশ করলে ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে এবং যকৃতকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভারের কোষ ধ্বংস করতে পারে।
সব খেজুর কি বিপজ্জনক?
সব খেজুরই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাজা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষিত খেজুর সাধারণত নিরাপদ। ঝুঁকি তখন তৈরি হয় যখন,
খেজুরের ভিতরে পোকা বা লার্ভা থাকে
সাদা বা কালচে ছত্রাক দেখা যায়
অস্বাভাবিক গন্ধ বা তেতো স্বাদ থাকে
খেজুর খাওয়ার আগে সতর্কতার নিয়ম
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন,
প্রতিটি খেজুর মাঝখান থেকে কেটে ভেতর পরীক্ষা করুন।
খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি বা কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
পচা, অতিরিক্ত নরম বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
দীর্ঘদিন খোলা রাখা খেজুর সংরক্ষণ করবেন না।
খেজুর শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন।
কেন লিভারের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি?
যকৃত শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। অস্বাস্থ্যকর বা দূষিত খাবার দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করলে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। খাবার বাছাইয়ে সতর্কতা এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি মেনে চললে খেজুর নিরাপদে খাওয়া সম্ভব। খাদ্য নিরাপত্তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো পরিবারের সুস্থতার সঙ্গে জড়িত।
সামান্য সতর্কতা লিভারকে রক্ষা করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।