আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় সাত বছরের শিশু ইরাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।
এর আগে একই দিন ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ইরা গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক। তখন তার গলা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের কাপড় দিয়ে শিশুটির গলায় চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে ইরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরা এলাকায় এবং উদ্ধারস্থলটি তার বাড়ি থেকে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক অপহরণ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিকে ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানা সূত্র জানায়, এ ঘটনায় হত্যা ও ধর্ষণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।