আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।
দীর্ঘ প্রায় ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার। দীর্ঘ ইনজুরি, পুনর্বাসন এবং অনিশ্চয়তার সময় পার করে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পেরে ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের পানি মুছতে দেখা যায় ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।
বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, শতভাগ ফিট না হলে শুধু তারকা খ্যাতির কারণে কেউ দলে জায়গা পাবেন না। শেষ পর্যন্ত নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন নেইমার।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় করতালি ও উচ্ছ্বাস। হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলারকে।
এই ম্যাচে মাঠে নেমে আরেকটি বিশেষ কীর্তিও গড়েছেন নেইমার। তিনি টানা চতুর্থ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেছেন। যদিও মাঠে সময় পেয়েছেন অল্প, তবুও তার প্রত্যাবর্তনই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত।
ম্যাচ শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক হন নেইমার। স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জাতীয় দলে ফিরে আসার আনন্দ এবং স্বস্তিই তার কান্নার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে মাঠের খেলায় শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনহার একটি গোলে জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।
৩-০ গোলের এই জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।