আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয় নরসিংদীর সুজন মিয়ার জীবনে। ট্রেন দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারান তার স্ত্রী সাথী বেগম ও দেড় বছর বয়সী ছেলে সাফওয়ান। দুর্ঘটনার পর স্ত্রীর লাশ কাঁধে, সন্তানের নিথর দেহ বুকে আর অন্য হাতে জীবিত মেয়েকে নিয়ে একাই রেললাইন পার হতে হয়েছে তাকে। তবে সেই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়ানোর পরিবর্তে অনেকেই ব্যস্ত ছিলেন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণে।
গত ২৭ মে নরসিংদী রেলস্টেশনের কাছে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাথী বেগম ও তার শিশু সন্তান।
ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুজন মিয়া বলেন, ট্রেন আসার বিষয়টি তারা বুঝতে পারেননি। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
শোকাহত এই বাবা বলেন, পরিবারের সব সুখ-স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। ঈদের কেনাকাটা নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও তাকে ফিরতে হয়েছে প্রিয়জনদের লাশ নিয়ে। সেই সময় আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং অনেকে ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিপদে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিকতা কি সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে? একজন শোকাহত বাবাকে সহায়তা না করে ভিডিও ধারণের প্রবণতাকে অনেকে অমানবিক আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হলেও সাহায্যের জন্য খুব কম মানুষই এগিয়ে আসে। পরে নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।