আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিশু-তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, সবার জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে বৈষম্য, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস থাকবে না এবং মানুষ গর্ব করে নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিতে পারবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত নিজ নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই জনসভার মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। দুপুরের পর থেকেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। একপর্যায়ে মাঠ ও আশপাশের সড়কে জনসমাগম ছড়িয়ে পড়ে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কোনো চাঁদা নেবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবে না। দুর্নীতি ও ইনসাফ বিক্রির রাজনীতি বন্ধ করতেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১০ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এটি হবে সাধারণ মানুষের বিজয়।
বিএনপির কার্ড বিতরণের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কয়েক হাজার টাকার কার্ডে মানুষের স্থায়ী সমস্যার সমাধান হবে না। জনগণের করের টাকায় দেশ চলে, অথচ এর বাইরে চাঁদাবাজির নামে আরেক ধরনের অবৈধ কর আদায় করা হয়, যা বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইনসাফ না থাকার কারণেই সমাজে দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস বেড়েছে। বিগত বছরগুলোতে ভোট ডাকাতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে আর কোনো ভোট ডাকাতি দেখতে চান না।
নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত হলে মানসম্মত হাসপাতাল, বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করা হবে। যেসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়, সেগুলোর কারণ জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য সহ্য করা হবে না। নতুন কোনো লুটেরাদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন। জনসভার মধ্য দিয়ে জামায়াত আমিরের চার দিনের ধারাবাহিক নির্বাচনি কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।