আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একদিনের ব্যবধানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা, পূর্ব এশিয়ার জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আঘাত হানা এসব ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের আশপাশে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। সংস্থাটির ঝুঁকি বিশ্লেষণে কয়েক হাজার থেকে এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করেছে। রাজধানী কারাকাসের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, গণপরিবহন এবং বিমান চলাচলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানেও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কম্পনটি আঘাত হানলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু বুলেট ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়নে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাপান সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সুনামির কোনো আশঙ্কা দেখা যায়নি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয় এবং হাজারো বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোকে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা ও বিবিসি