আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় জাহাজগুলিকে তল্লাশি ও স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং উচ্চ ট্রানজিট ফি প্রদান করতে হবে। সংবাদ সূত্রের মতে, অন্তত একটি তেলের ট্যাঙ্কার পারাপারের অনুমতি পেতে প্রায় ২০ লাখ ডলার (দুই মিলিয়ন ডলার) পরিশোধ করেছে।
সামুদ্রিক শিল্প বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েড’স লিস্ট’ জানিয়েছে, ইরান এই নিয়ন্ত্রিত রুটে জাহাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করছে, যা মূলত লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে চলে। এই রুট ব্যবহার করে জাহাজগুলিকে সরাসরি অনুমতি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। তবে সব জাহাজকে একই ফি দিতে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যদি তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আক্রমণ করা হয়, তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্থাপনাগুলো পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত এই পথ বন্ধ থাকবে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে। এই অবস্থায় নতুন ট্রানজিট ফি এবং নিয়ন্ত্রিত রুট প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ইতিমধ্যে জরুরি অধিবেশন ডেকেছে এবং আটকা পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুরক্ষিত কাঠামো গড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অনুমোদন ছাড়া পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর ফলে বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে বা বিকল্প রুট বেছে নিয়েছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক নাবিক আহত বা নিহত হয়েছে। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালি ও আশেপাশের জলসীমার জন্য ‘ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমার প্রিমিয়াম অনেক গুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিশ্ববাজারের তেলের দর বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যের সংকেত দেয়।