আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বয়স যেন কেবল একটি সংখ্যা। দৃঢ় ঈমান, অটুট ইচ্ছাশক্তি এবং মহান আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলে মানুষের কাছে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ইন্দোনেশিয়ার ১০৪ বছর বয়সী নারী এমবাহ মার্সিয়াহ, যিনি শতবর্ষ পেরিয়েও পবিত্র হজ পালনের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।
বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলমানের মতো তিনিও আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ জিয়ারত এবং হজের ফরজ ইবাদত পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তার এই যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় সফর নয়, বরং ধৈর্য, আশা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ করা হয়েছে। প্রতি বছর জিলহজ মাসে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান মক্কা ও মদিনায় সমবেত হয়ে এই মহান ইবাদত পালন করেন।
হজের প্রতিটি ধাপ মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে। ইহরাম ধারণ, কাবা শরীফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, মুজদালিফায় রাত্রিযাপন, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ এবং কোরবানি করার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর প্রতি নিজের পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেন।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, হজ মানুষের আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে তওবা এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার এক অসাধারণ সুযোগ। একই সঙ্গে এটি জাতি, বর্ণ, ভাষা ও দেশের বিভেদ ভুলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের এক মহামিলনমেলা।
১০৪ বছর বয়সী এমবাহ মার্সিয়াহর হজযাত্রা অনেক তরুণ ও মধ্যবয়সী মানুষের কাছেও একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও তিনি আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহর ইবাদতের জন্য বয়স কখনো বাধা নয়। আন্তরিক নিয়ত, ধৈর্য এবং আল্লাহর রহমত থাকলে অসম্ভব মনে হওয়া স্বপ্নও বাস্তবে পরিণত হতে পারে।
পবিত্র হজ শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, এটি একজন মুসলমানের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। আর এমবাহ মার্সিয়াহর এই অনন্য যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।