আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন অস্থির, তখন বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশ কমে গেছে। এটি ১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হিসেবে রেকর্ডে এসেছে।
বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারতে নেমে গেছে, যা একদিনের মধ্যে ১০৮.৮৩ ডলারের পতন। এর ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলে তা স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের এই পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। সাধারণত তেলের দাম বেড়ে গেলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেন, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার স্থিতিশীল রাখায় বন্ড এবং অন্যান্য বিনিয়োগের আকর্ষণ বেড়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ক্রয় ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ডলার সূচক প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে কম আগ্রহী হয়েছেন।
ফান্ডস্ট্র্যাটের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হার্দিকা সিং বলেন, “বন্ড থেকে বেশি মুনাফার সুযোগ থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ বিক্রি করে বন্ডের দিকে যাচ্ছে। এই কারণেই স্বর্ণের দাম এতো দ্রুত কমছে।
গত বছর ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের বেশি ছিল। এখন অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে বা পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করতে স্বর্ণ বিক্রি করছেন।
বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, পতনের পরও বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম পুনরায় ৫ থেকে ৬ হাজার ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ।