আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের জবাবে পৃথক বক্তব্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আলোচিত অর্থ কোনো ব্যক্তির হাতে দেওয়া হয়নি; এটি ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ। তার দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে তিনি ও হাসনাত ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি জানান, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়নমূলক কাজে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়। বরাদ্দ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্প নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা পরিষদের নথিতে দেখা যায়, আলোচিত অর্থের একটি অংশ সোলার লাইট স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। তাই এটিকে ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তার নামে যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে, সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ ছিল। ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া পরবর্তীতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি কাউকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেননি। তার বক্তব্যের অর্থ ছিল, সংশ্লিষ্ট দুই এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, বরাদ্দ দেওয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।